কেয়ামতের দিন আমলনামা কোন ধরনের নিক্তিতে পরিমাপ করা হবে?

  • Posted: 11/10/2022

অনুবাদঃ মাওলানা মরহুম সৈয়দ মোহাম্মাদ রেজা

যারা রোজ কেয়ামতের নিক্তিকে দুনিয়ায় প্রচলিত নিক্তির ন্যায় বিশ্বাস করেন তারা এটা ভাবতে বাধ্য যে, মানুষের আমলসমূহকে এক ধরনের ওজনে রূপ দেন যাতে এগুলোকে নিক্তিতে পরিমাপ করা যেতে পারে। কিন্তু অনেক সাক্ষ্য প্রমাণ এ কথাকেই সমর্থন করে যে, ‘মিযান’ বা নিক্তি সাধারণ ওজন পরিমাপক অর্থে ব্যবহৃত একটি বিষয়। কেননা আমরা ভাল ভাবেই জানি যে, প্রত্যেক জিনিসের পরিমাপের জন্য পৃথক পৃথক যন্ত্র থাকে। যেমন, উষ্ণতা পরিমাপের জন্য ‘থার্মোমিটার’, অথবা বায়ু পরিমাপের জন্য ‘এয়ার মিটার’ ইত্যাদি।

সুতরাং এখানে মিযানে আমাল বা আমলের নিক্তি বলতে সেই সকল ব্যক্তিবর্গকে বুঝানো হয়েছে যাঁদের আমলের মাধ্যমে উত্তম ও মন্দ লোকের আমলসমূহের তুলনা ও যাচাই করা যায়। যেমন আল্লামা মাজলিসী (রহঃ) শেখ মুফিদ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন-অর্থাৎ, “আমীরুল মুমিনীন ও ইমাম (আঃ)গণ কেয়ামতের দিন আল্লাহর ন্যায় ও ইনসাফের মানদণ্ড হবেন।” (বিহারুল আনওয়ার, খঃ ৭, পৃঃ ২৫২)

উসুলে কাফি ও মাআনি আল আখবার গ্রন্থেও হযরত ইমাম জাফর সাদেক (আঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত (অর্থাৎ, “আমি কেয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব”-সূরা আম্বিয়া ঃ ৪৭) সম্পর্কে প্রশ্ন করলে ইমাম (আঃ) এরশাদ করলেন এখানে মিযানে আমাল বা আমলের নিক্তি বলতে আম্বিয়া কেরাম ও তাঁদের স্থলাভিষিক্তদের বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে বুরহান, খঃ ৩, পৃঃ ৬১, উসুলে কাফি, খঃ ১, পৃঃ ৪১৯, এ হাদীসের উল্লেখ অন্যান্য তাফসীর গ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে)

হযরত আমীরুল মুমিনীন (আঃ)-এর যিয়ারতে মুতলেকায় একটি যিয়ারত আমরা পাঠ করি “আস্সালামু আলা মিযানুল আমাল” অর্থাৎ, তোমার উপর সালাম হোক হে আমলসমূহের নিক্তি। (মাফাতিহ আল জেনান নামক গ্রন্থের যিয়ারতের অধ্যায়)

প্রকৃতপক্ষে, এ সকল মহান ব্যক্তিত্ব আমলের ক্ষেত্রে আদর্শ ও মানদণ্ডস্বরূপ। প্রত্যেক ব্যক্তির আমলসমূহ যদি তাঁদের আমলসমূহের অনুরূপ হয় তাহলে সে আমলসমূহের ওজন আছে আর এর বিপরীত হলে সে আমলের কোন ওজন নেই। এমনকি এ পৃথিবীতেও আল্লাহর ওলীগণ আমলের ক্ষেত্রে মানদণ্ডস্বরূপ, কিন্তু কেয়ামতের দিন এ বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট হয়ে যাবে। (তাফসিরে পায়ামে কোরআন, খঃ ৬, পৃঃ ১৫৯) #####

Share: