খুলনায় “ইসলামী বিপ্লব বার্ষিকী-২০২২” উপলক্ষে ওয়েবিনার

  • Posted: 13/02/2022

ইসলামী বিপ্লবের ৪৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আহলে বাইত (আ.) ফাউন্ডেশন ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

আহলে বাইত ফাউন্ডেশনের প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে আয়োজিত এ ওয়েবিনারে বাংলাদেশ ও ইরানের প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। আহলে বাইত ফাউন্ডেশনের সভাপতি হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ ইব্রাহীম খলীল রাজাভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশস্থ ইরানের মহামান্য রাষ্ট্রদূত জনাব রেজা নাফার, ইরান কালচারাল কাউন্সিলর জনাব সাইয়্যেদ হাসান সেহাত, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এ্যাড. এ.কে.এম. বদরুদ্দোজা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন প্রধান, ইরানিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের উপাধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম ড. মোঃ আব্দুল কুদ্দুস, ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষা বিভাগীয় প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম আলী মোর্ত্তজা।

ওয়েবিনারে ইরান থেকে ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে সংযুক্ত হোন আহলুল বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মুবাল্লিগ বিভাগের মহাপরিচালক হুজ্জাতুল ইসলাম ড. মোহাম্মদ আলী ময়ীনিয়ান, আহলুল বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম ড. মোহাম্মদ জাওয়াদ যারিয়ান প্রমূখ।

গত ১২ ফেব্রুয়ারী বিকেল ৩টা থেকে ৫.৩০ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ওয়েবিনার পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের ছাত্র মোঃ আমিরুল ইসলাম।

অংশগ্রহণকারী সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, আলোচক ও ওয়েবিনারে দর্শক শ্রোতাদেরকে স্বাগত জনান আহলে বাইত ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক জনাব মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি সবাইকে এ মহান দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন ইসলামী বিপ্লবের মূল চালিকা শক্তি ছিল কারবালায় ইমাম হোসাইন (আ.) এর শাহাদাতের চেতনা এবং আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস।

হুজ্জাতুল ইসলাম মোঃ আলী মোর্ত্তজা তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ইমাম খোমেনী (রহ) পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য জালিম শাহের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে ইসলামী বিপ্লব প্রতিষ্ঠা করেন। এ বিপ্লবের প্রভাব আজ সারা বিশ্বে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ইরান থেকে ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন হুজ্জাতুল ইসলাম ড. আলী ময়ীনিয়ান। ভিডিওতে ধারণকৃত বক্তব্যে তিনি বলেন, মানবতার সৃষ্টির সূচনা থেকেই আল্লাহর জমিনে হক ও বাতিল বিদ্যমান ছিল এবং আল্লাহ বাতিল থেকে হককে বেছে বের করার দায়িত্ব মানুষের কাঁধেই ন্যস্ত করেছেন। তিনি বলেন আমরা যুগের ইমামের গায়বাতে কুবরা বা দীর্ঘ অন্তর্ধানের যুগে বাস করছি। ইরানের ইসলামী বিপ্লব দ্বাদশ ইমামের (আ.) আগমনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে। রাসূল (সা.) বলেন, প্রাচ্যের একদল মানুষ বিপ্লব ঘটাবে এবং যুগের ইমামের (আ.) আগমনের ক্ষেত্র তৈরী করবে। তাই ইসলামী শক্তিকে উঁচিয়ে ধরার চেষ্টা করতে হবে এবং এর শিক্ষাগুলো যেন পৃথিবীব্যাপী বাস্তবায়িত হয় সে চেষ্টাও চালাতে হবে। আর এর মাধ্যমে যুগের ইমামের আগমনের ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়। জিহাদ, আত্মত্যাগ ও প্রতিরোধ ক্ষমতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

আহলুল বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-প্রধান ড. মোহাম্মদ জাওয়াদ যারিয়ান তার বক্তৃতায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, জিহাদ ও তার সংজ্ঞা নিয়ে কথোপকথন শুরু হয়েছে। তিনি আরো বলেন ইমাম খোমেনী (রহ) শাহের বিরুদ্ধে উত্থান করলে বিশ্ববাসী তাঁর বিরোধিতা শুরু করে এবং শাহের পক্ষ নেয়। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে মোনাফিক গোষ্ঠী, ইরাকের সাদ্দাম সরকার প্রভৃতিকে লেলিয়ে দেয়। কিন্তু তারপরও ইসলামী বিপ্লবের এ ধারাকে তারা নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়নি। পক্ষান্তরে, ইরানের অর্থনীতি উন্নতি লাভ করেছে। সামরিক শক্তিতে আজ ইরান প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে। ইসলামী বিপ্লবের দ্বারা আজ সারা মুসলিম বিশ্ব প্রভাবিত হয়েছে এবং হচ্ছে।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দূতাবাসের মাননীয় কালচারাল কাউন্সিলর সাইয়্যেদ হাসান সেহাত তাঁর আলোচনায় বলেন, ইরানে ইসলামী বিপ্লব প্রমাণ করেছে যে বিশ্বে একনায়কতন্ত্র ধ্বংস করে দেয়া যায়। তিনি বলেন, এ বিপ্লব রুশ ও চীনের বিপ্লব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং ধর্মের সাথে এ বিপ্লবের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ইরানের ইসলামী বিপ্লব অন্যান্য বিপ্লবের সম্পূর্ণ বিপরীত। এই বিপ্লব বিশ্বের মুসলমানদেরকে যে বার্তা দিয়েছে তা হলো ঐক্য ও সংহতি, সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার বার্তা এবং এই বিপ্লবের জন্য মানুষ যেমন জীবন দিয়েছিল তেমনি বিপ্লব রক্ষার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত।

ঢাকাস্থ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দূতাবাসের মাননীয় রাষ্ট্রদূত জনাব মোঃ রেযা নাফার বলেন, এই বিপ্লবের সাথে বিশ্বে যেসকল দেশে বিপ্লব ঘটেছে তার তুলনা করা সম্ভব নয়। এ বিপ্লব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক পরিবর্তনের একটি বিপ্লব। এ বিপ্লবের ফলে আজকে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের মধ্যে বিপ্লব ও জাগরণের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের কথা উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন প্রধান এ বিপ্লব উপলক্ষে ইরানি জাতিকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, এ বিজয়কে আমরা শুধু ইরানীদের বিজয় মনে করিনা বরং সমগ্র মুসলমানদের বিজয় মনে করি। ইরানের জনগণ ইমাম খোমেনীর (রহ) ডাকে সাড়া দেয়ার কারণে এ বিজয় অর্জিত হয়েছে এবং বিশ্ববাসী এর প্রতি আশার দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে। তিনি বলেন, ইরানের জনগণ আল্লাহর হুকুমের আনুগত্য করায় এ বিপ্লব বিজয়লাভ করেছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সাথে ফার্সী ভাষার সম্পর্ক অতি প্রাচীন।

হুজ্জাতুল ইসলাম ড. মোঃ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এ বিপ্লব নিপীড়িত জনগণের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ছিল। বিশ্বের সব বিপ্লবই নিপীড়িত জনগণের সাথে ছিল তবে পার্থক্য হলো কোরআনের দৃষ্টিতে নিপীড়িত মানুষ তাদেরকে বলা হয় যারা ঈমান ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে দূর্বল।

সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এ্যাড. বদরুদ্দোজা তার সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বলেন, তার পর্যবেক্ষনে ইসলামী বিপ্লব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লব ছিলনা। এটি ছিল একটি ধর্মীয় বিপ্লব। যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও আমেরিকাকে ভাবিয়ে তুলে হিজবুল্লাহ ও হামাস ইরানের এ বিপ্লব থেকে উজ্জীবিত হয়ে আজ ইসরাইলের প্রতি চোখ রাঙাচ্ছে। এ বিপ্লবের কারনেই একদিন আল-কুদ্স মুক্ত হবে ইনশাল্লাহ এ আশাবাদ তিনি ব্যক্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে আহলে বাইত ফাউন্ডেশনের সভাপতি হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ ইব্রাহীম খলীল রাজাভী তার সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেন, এই বিপ্লব আমাদের কাছে আমানত। এই আমানত আমাদেরকে সারা বিশ্বে পৌঁছে দিতে হবে। এই বিপ্লব যদি সফল না হতো তাহলে আল-কুদ্স এর মুক্তি আন্দোলন শক্তি পেতো না। এই বিপ্লব সফল না হলে মজুলমরা আরো মজলুম হয়ে যেত। এ বিপ্লবের কারণে বৃহত্তর ইসরাইলের যে স্বপ্ন ছিল তা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। সভাপতি বাংলাদেশসহ ইরানী জনগণ এবং বিশ্বের মুসলমানদের সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

আহলে বাইত ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ ওয়েবিনার সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্রের সাংস্কৃতিক বিভাগীয় প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম মোঃ আনিসুর রহমান।

Share: